রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) সুদ আয় কমেছে ৪৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কোম্পানিটি জানিয়েছে, সম্মিলত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে রাখা আমানতের বিপরীতে সুদ আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে মোট আয় কমার পাশাপাশি নিট মুনাফাও কমেছে। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের জুলাই-ডিসেম্বর প্রান্তিকে যমুনা অয়েলের সুদ আয় হয়েছে ১৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৩৪৬ কোটি ১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির আয়ের বড় অংশ আসে সুদ আয় থেকে, যা পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি থেকে অর্জিত আয়ের চেয়ে বেশি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড থেকেও ৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আয় করেছে। তবে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে অন্তর্ভুক্ত সুদ আয় এ সময়ে সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে কোম্পানিটির নিট মুনাফাও কমেছে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
প্রথমার্ধে যমুনা অয়েলের কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৯ টাকা ৬৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের সময়ে যা ছিল ২৩ টাকা ৯২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৯১ টাকা ৬৭ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে যমুনা অয়েলের ইপিএস হয়েছে ৫৮ টাকা ৭০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪০ টাকা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৭৪ টাকা ৩ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে যমুনা অয়েলের ইপিএস হয়েছে ৪০ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩০ টাকা ৮৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২৮ টাকা ৬১ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে যমুনা অয়েলের ইপিএস হয়েছে ৩০ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৬ টাকা ৮৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২০৫ টাকা ৪৯ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে যমুনা অয়েলের ইপিএস হয়েছে ১৬ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৮ টাকা ২৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৮৯ টাকায়।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যমুনা অয়েলের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১০ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬০০।
এর ৬০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ রয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩০ দশমিক শূন্য ১, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ৩১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
যমুনা অয়েলের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।